শনিবার ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অতি ডানপন্থিদের উত্থান

ইইউ নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে ইতালির প্রধানমন্ত্রী

জামশেদ আলম রনি   |   সোমবার, ১০ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   8 বার পঠিত

ইইউ নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে ইতালির প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৭২০ আসনের নির্বাচনে মধ্যপন্থি, উদার ও সমাজতান্ত্রিক দলগুলো মিলে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখলেও বড় উত্থান হয়েছে ডানপন্থিদের। বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানিতে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দলগুলো। তাদের এ সাফল্য ইউরোপের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে অনিশ্চয়তা যোগ করেছে। চার দিনের এ নির্বাচন রবিবার শেষ হয়। নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২১টি দেশের ভোটাররা ভোট দেন। ভোটারের সংখ্যা ৩৫ কোটি।

ফ্রান্সে মেরিন লে পেনের ন্যাশনাল র্যালি পার্টি ভোটে এমন পরিমাণে আধিপত্য বিস্তার করেছে যে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ অবিলম্বে জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপিয়ান নির্বাচনে ইতালিতে জয় পেয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ব্রাদার্স অব ইতালি পার্টি। দলটি মোট ভোটের প্রায় ২৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে; যা একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের ধারণা, জয়ের ফলে মেলোনিকে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের কিংমেকারের ভ‚মিকায় দেখা যেতে পারে। কেননা সেখানে তিনি অন্যতম শক্তিশালী নেতা হতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে নির্বাচনটিতে ইতালির মধ্য-বামপন্থি দল বিরোধী পিডি ২৩ ভাগ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। আর পপুলিস্ট ফাইভ স্টার মুভমেন্ট ১০ ভাগ ভোট পেয়েছেন।

সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান পলিসি স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক আন্দ্রেয়া রেন্ডা ইউরোনিউজকে বলেন, ‘দলীয় ফলাফলে বৈচিত্র্যের কারণে কোয়ালিয়েশনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেননা অন্য দলগুলো বুঝতে পারছে যে তারা ব্রাদার্স অব ইতালির সঙ্গে যত বেশি ক্ষমতায় থাকবে তারা ততই জনসমর্থন হারাবে।’

এদিকে মধ্য-ডানপন্থি ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন এবং ফ্রান্সের মেরিন লে পেন মেলোনির সমর্থন চেয়েছেন। এতে করে নির্বাচন শেষে তিনি আবিভর্‚ত হয়েছেন কিংমেকার হিসেবে। এদিকে ডার লেনের দ্বিতীয় দফায় ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে মেলোনির সমর্থন প্রয়োজন। যদিও নির্বাচনকালীন সময়ে একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে বর্তমান এই প্রেসিডেন্ট ইতালির প্রধানমন্ত্রীর প্রতিই আস্থা ব্যক্ত করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৭২০ আসনের নির্বাচনে বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানিতে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছে কট্টর ডানপন্থি দলগুলো। ২৭টি দেশের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, ইউরোপীয় কমিশনের বর্তমান প্রধান উরসুলা ভন ডার লেনের মধ্য-ডানপন্থি দল ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি) ইইউ পার্লামেন্টের ৭২০টি আসনের মধ্যে ১৯১টি আসনে জিতেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মধ্য-বামপন্থি সোশ্যালিস্টস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটরা (এস অ্যান্ড ডি) ১৩৫টি আসন পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা উদারপন্থি রিনিউ গ্রপ ৮৩টি আসন পেয়েছে। নির্বাচনে ইউরোপীয়দের ভোট আগামী পাঁচ বছরের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেবে, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, জাতীয়তাবাদের মতো বিষয়গুলো নির্বাচনের ফলাফলের ওপর অনেকটা প্রভাব বিস্তার করবে।

ডানপন্থি এবং কট্টর ডানপন্থি দলগুলো ইউরোপে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে ইতোমধ্যেই এর প্রভাব দেখতে পাওয়া গেছে। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, মধ্য-ডানপন্থি ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আরও নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। ফ্রান্স ও জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো বুথফেরত জরিপে এগিয়ে থাকলেও আশানুরূপ ফলাফল পায়নি মধ্যপন্থি, উদারপন্থি, গ্রিন পার্টি কিংবা বাম দলগুলো।

৭২০ আসনের এ পার্লামেন্টে মধ্যপন্থি, উদার ও সমাজতান্ত্রিক দলগুলো মিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখলেও ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়ার নেতাদের জন্য এ নির্বাচনের ফলাফল একটা বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।

ফ্রান্সে ডানপন্থি মেরিন লে পেন প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল র্যালি পেতে যাচ্ছে প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোট। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর রেনেসাঁ পার্টি পেতে যাচ্ছে ১৫ শতাংশ ভোট। এ ফলাফল দেখে আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। তিনি দেশটির পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। এ পদক্ষেপকে ম্যাক্রোঁর জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ম্যাক্রোঁর মতো জার্মান চ্যানসেলর ওলাফ শলৎজের জন্যও এ নির্বাচন দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে। নির্বাচনে তাঁর সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে। অতি ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। অস্ট্রিয়ায় অতি ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টি প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল পিপলস পার্টি ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ইউরোপীয় জাতিসত্তার আয়না বলা হয়ে থাকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো দল থেকে ব্যক্তিবিশেষ সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। শুধু দলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য তালিকা তৈরি করে। যে কোনো দল তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ লাভ করে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য কোটা নির্ধারিত হয় দেশগুলোর জনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী। সেই হিসাবে জার্মানির লোকসংখ্যার অনুপাতে সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ৯৬। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

Facebook Comments Box

Posted ২:৩৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১০ জুন ২০২৪

londonpratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Editor : Naem Nizam