সোমবার ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ সম্মাননা পেলেন নাজ ইসলাম

এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীম   |   সোমবার, ০৩ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   4 বার পঠিত

‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ সম্মাননা পেলেন নাজ ইসলাম

চ্যারিটি কার্যক্রম ও সামাজিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ সম্মাননা গ্রহণ করেছেন বিসিএ এর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, কনজারভেটিব ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নর্থাম্পাটনের সাফরন রেস্টুরেন্টের মালিক কমিউনিটি এক্টিভিস্ট নাজ ইসলাম।। ২৮ মে লন্ডনের গিল্ড হলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ সম্মাননা গ্রহণ করেন নাজ ইসলাম।

এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা ছাড়া ও উপস্থিত ছিলেন লর্ড রামি রেঞ্জার সিবিই, ডাঃ সানোয়ার চৌধুরী সমাজসেবী ও ব্যবসায়ী, বিসিএ প্রেসিডেন্ট অলি খান এমবিই, চীফ ট্রেজারার, টিপু রহমান, করবি টাউনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, কাউন্সিলর ইমরান চৌধুরী বি.ই.এম, চ্যানেল এস টেলিভিশনের সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার ডা. জাকি রেজওয়ানা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সিরাজ ইসলাম, জুয়েল মিয়া, জুনেল আহমদ, আনোয়ার আলী, কাউন্সিলর রিতা বেগম. সিএফওবির প্রতিষ্ঠাতা রাফাত খান, আব্দুল আহাদ ব্যবসায়ী ও অশোক কুমার এমবিই ব্রিটিশ আর্মি সহ আর অনেকেই।

যুক্তরাজ্যের নর্থাম্পটনের বাসিন্দা নাজ ইসলাম মসজিদ, মাদরাসা সহ বিভিন্ন চ্যারিটি সহ নানা সেবা মুলক কাজে জড়িত। নাজ ইসলাম নর্থাম্পটন শায়াররে মধ্যে এই প্রথম ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ সম্মাননা পেলেন। ১২৩৭ সালে শুরু হওয়া এই সম্মাননা ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শুধু ব্রিটিশ ও কমনওয়েলথ নাগরিকদের জন্য ছিল। ১৯৯৬ সালের পর এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, প্রিন্স ফিলিপ, রানিমাতা কুইন এলিজাবেথ, কিং চার্লস, প্রিন্সেস ডায়না, উইনস্টন চার্চিল, ক্লিমেন্ট অ্যাটলি, মার্গারেট থ্যাচার, ফুটবলার হ্যারি কেইন, নেলসন ম্যান্ডেলা, স্টিফেন হকিংসসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি সিটি অব লন্ডন সম্মাননায় ভ‚ষিত হন। ২৭ বছরের কর্মজীবনে, নাজ স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলির জন্য প্রায় ১০০, ০০০ পাউন্ড সংগ্রহ করেছেন এবং তার পরিবারের সহায়তায় বাংলাদেশের তার নিজ গ্রামে বড় দিরারাই এলাকায় একটি স্কুল এবং এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তিনি বলেন, “এই সম্মান পাওয়া আমার কাছে বিশ্ব মানের এবং এই স্বীকৃতির জন্য আমি শব্দের বাইরে কৃতজ্ঞ। এটি একটি খুব বিশেষ মুহুর্ত ছিল এবং যা আমি চিরকাল ধরে রাখব। “আমি নর্থহ্যাম্পটন এবং বাংলাদেশে উভয় ক্ষেত্রেই আমার সম্প্রদায়ের প্রতি আন্তরিকভাবে যত্নশীল। আমি সবসময় ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, আমার চেয়ে কম ভাগ্যবানদের সাহায্য করেছি এবং আমার হৃদয়ের কাছাকাছি স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলির জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছি।”

নাজ নর্দাম্পটনের ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশী সম্প্রদায়কে সমর্থন করার জন্য এবং সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন ও সংহতিকে উৎসাহিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, যেখানে তিনি তার জন্মভ‚মি এবং নর্থহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনে সাহায্য করেছেন, যেখানে তিনি নিয়মিতভাবে দেশের স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবস উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। নর্থাম্পটন নাজ ইসলাম প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। নাজ হার্ট অফ নর্থহ্যাম্পটন পুরস্কারের পূর্ববর্তী বিজয়ী এবং গত বছর ব্যবসায়িক এবং সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে তার পরিষেবার স্বীকৃতিস্বরূপ নর্থহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে তাকে ব্রিটিশ নাগরিক পুরস্কার দেওয়া হয়।

দ্য ফ্রিডম অফ দ্য সিটি অফ লন্ডন আজও বিদ্যমান প্রাচীনতম টিকে থাকা ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি এবং বিশ্বাস করা হয় যে এটি ১২৩৭ সালে প্রথম উপস্থাপিত হয়েছিল। নাজ যোগ করেছেন: “রাজপরিবারের সদস্য, উইনস্টন চার্চিল, নেলসন ম্যান্ডেলা, এড শিরান এবং প্রফেসর স্যার ক্রিস হুইটির মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদেরও এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল যা আমাকে গর্বিত করে যে আমি একই স্তরের কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছি। এই পুরস্কারের জন্য আমার নাম এগিয়ে দেওয়ার জন্য আমি আমার মনোনীত ব্যক্তিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।” স্বীকৃতিটি বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের সদস্যদের দ্বারা ভালভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

লর্ড রামি রেঞ্জার সিবিই বলেছেন: “আমি নাজকে এক দশক ধরে চিনি। তিনি একজন অনন্য ব্যক্তি যিনি কঠোর পরিশ্রম করেন এবং তার নাগরিক দায়িত্বগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেন। তিনি ব্রিটিশ বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য একটি মহান রোল মডেল। “তিনি শুধু গর্বের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেন না বরং যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী অনেক সংস্থাকেও সমর্থন করেন।”

কাউন্সিলর ইমরান আহমেদ চৌধুরী বিইএম যোগ করেছেন: “এই পুরস্কারটি নাজের অটল প্রতিশ্রুতি এবং সম্প্রদায়ের সেবায় উৎসর্গের প্রমাণ। তার আবেগ এবং অক্লান্ত প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে এবং নর্থহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষায় তার অবদান উচ্চ প্রশংসার দাবিদার। এই স্বীকৃতিটি যথাযথভাবে প্রাপ্য এবং আমাদের সম্প্রদায়ের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য প্রচেষ্টা করার জন্য আমাদের সবার জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করে।” ব্যবসা ও সমাজসেবায় কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২৩ সালে নর্থাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাজ ইসলামকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়াও একই বছর চ্যারিটি ও সেবামূলক কাজে অবদানের জন্য নর্থাম্পটন কাউন্সিলের মেয়র ডেনিশ মেরেডিথ তাকে ‘হার্ট অব নর্থাম্পটন এওয়ার্ড‘ -এ ভূষিত করে। তিনি যুক্তরাজ্যে কারী ইন্ড্রাস্ট্রির প্রাচীন ও বৃহত্তম সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন ( বিসিএ) এর প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন। নাজ ইসলাম ব্রিটেনের এথনিক মাইনোরিটির তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কাজে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে কাজ করা সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি প্রোমোশন এন্ড প্রিভেনশন এর কো-অর্ডিনেটর। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি অসংখ্য তরুণদের বর্ণ ও জাতিগত বৈষম্যের স্রোত থেকে তুলে তাদের আলোকিত জীবন গড়তে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।

করোনা মহামারির লকডাউন ক্রাইসিস সময়ে নাজ ইসলাম নর্থাম্পটন শহরের নর্থাম্পটন জেনারেল হাসপাতাল, দ্য হোপ সেন্টার, কেয়ার হোম ও নাইট শেন্টারগুলোতে নিয়মিতভাবে খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেছেন।

তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ কমিউনিটি কর্মী। কমিউনিটির বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজে তার যেমন সক্রিয় অংশগ্রহন রয়েছে তেমনি লোকাল ফুড ব্যাংক ও তরুণ এন্টারপেনারদের সামাজিক কাজে উদ্ধুদ্ধ করণেও কাজ করছেন।

নাজ ইসলাম বাংলাদেশে আর্ত মানবতায় ধারাবাহিকভাবে নিডি মানুষের পাশে রয়েছেন। শিক্ষার উন্নয়নে দুই ভাইয়ের উদ্যোগে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বড়দিরারাই উলুম মাদ্রাসা। ১৬০ জন বোর্ডিং শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের আলো দানকারী প্রতিষ্ঠানের তিনি চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্মাননা গ্রহন করে নাজ ইসলাম বলেন “এই সম্মানটি পাওয়া আমার কাছে বিশ্বমানের এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষাও বর্ণনাতীত। এই সম্মান ও বিশেষ মুহুর্তটি আমি আজীবন ভালো কাজের মাধ্যমে ধরে রাখবো, ইনশাল্লাহ।
আমি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে নর্থহ্যাম্পটন এবং বাংলাদেশে কমিউনিটির বিশেষ করে নিডি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। তাদের ভালোবাসা ও সম্মানকে আমি বিভিন্ন চ্যারিটি কাজের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেবার চেষ্টা করেছি। এবং আগামীতেও এই কাজটি অব্যাহতভাবে করে যেতে চাই।’’ বিশেষ অতিথি লর্ড রামি রানঞ্জি সিবিই বিগত এক দশক ধরে নাজ ইসলামকে চেনার অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরে বলেন, তিনি কাজের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত পরিশ্রমি কমিউনিটি লিডার। কোন দায়িত্ব নিলে সেটি গুরুত্ব সহকারে সম্পাদন করা তার একটি বড় গুণ। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য তিনি একজন রোল মডেল।

কাউন্সিলার ইমরান আহমদ চৌধুরী বিইএম বলেন, এই সম্মানটি মূলত নাজ ইসলামের কমিউনিটিতে তার ধারাবাহিক সামাজিক ও সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন। অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্যোমী নাজ ইসলাম ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মধ্যেও নর্থহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন যা কমিউনিটিতে আলোকিত দৃষ্টান্ত হতে পারে। নাজ ইসলামের জন্ম নর্থাম্পটন শহরে। নাজ ইসলাম এর বয়স যখন পনের তখন থেকে তিনি রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন।

নাজ ইসলাম এর বাড়ি সিলেট জেলার ওসমানী নগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের বড়দিরারাই গ্রামে। তার বাবার নাম (মরহুম) হাজী আফতাব আলী। মাতা কইতুন বিবি। স্ত্রী হালিমা বেগম। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার দাদা মরহুম মো. নইমুল্লাহ সারং ১৯৪১ সালে বিলাতে আসেন।

Facebook Comments Box

Posted ১:৫১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৩ জুন ২০২৪

londonpratidin.com |

Editor : Naem Nizam